(৪/১/২২ – # কোলকাতা প্রাইম টাইমে প্রকাশিত )
‘সোনালি-কপাল পাতা বুলবুলি’ (Golden-fronted Leafbird)। ‘পাতা বুলবুলি’, ‘সবুজ পাতা বুলবুলি’ বা ‘সোনা-কপালি হরবোলা’ নামেও পরিচিত। বনবাদাড়ে এদের বেশ সংখ্যায় দেখা যায়। বৈজ্ঞানিক নাম Chloropsis aurifrons।
এদের দেহ পাতার মতো সবুজ হলেও কপাল কমলা-হলুদ বা সোনালি। লম্বায় প্রায় ১৯সেন্টিমিটার। ওজনে পুরুষ পাখি প্রায় ৩০
গ্রাম ও স্ত্রী পাখি প্রায় ২৫ গ্রাম। ঠোঁটথেকে চোখ, চোখের কোল, মুখমণ্ডল হয়ে গলা পর্যন্ত কালো। এর ঠিক মাঝখানে চিবুক ও গলার উপরাংশ বেগুনি-নীল। গলার দুই পাশে এই কালোর নিচে ও বুকের উপরাংশে হলুদ বা সোনালি-হলুদরেখা। ঈষৎবাঁকা ঠোঁটটি কালো। গাঢ় বাদামি চোখ। পা ও পায়ের পাতা কালো। স্ত্রী পাখির কপালের সোনালি রং পুরুষের চেয়ে হালকা।
বাচ্চাগুলো পুরোপুরি সবুজ হয় ।
এরা চিরসবুজ ও পাতাঝরা বন এবং গাছপালাপূর্ণ স্থানে থাকতে ভালোবাসে। সাধারণত ছোট দলে বা জোড়ায় থাকে। এরা লোকালয়ে খুব একটা আসে না। গাছের ঘন পাতায় ও উচুঁ ঝোপ-ঝাড়ে এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। ফুলের নির্যাস, পোকামাকড়, ছোট ফল এদের প্রিয়। দেখতে যেমন সুন্দর, গানের গলাও বেশ। এরা নানা স্বরে গান গায়, যেমন:‘হুইট; চা কি-হুই; সুই-চি-চি-উই; চুপ-চাও’ , এমনকি অন্য পাখির স্বরও নকল করে ধোকা দিতে বেশ ওস্তাদ। তাই কোথাও কোথাও ‘হরবোলা’ নামে পরিচিত।

গাছের ঘন পাতায় ও উচুঁ ঝোপ-ঝাড়ে এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। এদের খাদ্য তালিকায় পোকা-মাকড়, ফুলের রস বা মধু, রসালো ফল ও পাকড় ফল রয়েছে। নিজেরাই নিজেদের খাবার খুঁজে খায়। অন্য কারো খাবারে হানা দেয় না। মোটামুটি শান্ত স্বভাবের পাখি। এরা মাটিতে খুব কমই নামে। বিশেষজ্ঞদের মতে এদের স্বভাব খুব এগ্রেসিভ। তারা নিজের এলাকা সম্পর্কে বেশ সচেতন। স্ত্রীর তুলনায় পুরুষরা বেশি এগ্র্রেসিভ। পাতার রঙে গায়ের রং হওয়ার এদের সহজে দেখা যায় না। এরা প্রায়ই শব্দ করে চলে। ডাক শুনে এদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
জানুয়ারি থেকে আগস্ট প্রজননকাল। গাছের মগডালে কাঠি, পাতা, ঘাস ও মস দিয়ে বাটির মতো পরিপাটি করে বাসা বানায়।
স্ত্রী পাখি তাতে দু-তিনটি ক্রীম রঙেরডিম পাড়ে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট প্রজননকাল। গাছের মগডালে কাঠি, পাতা, ঘাস ও মস দিয়ে বাটির মতো পরিপাটি করে বাসা বানায়। স্ত্রী পাখি তাতে দু-তিনটি ক্রিম রঙের ডিম পাড়ে।
সারা দেশেই মোটামুটি সবুজ পাতা বুলবুলি দেখতে পাওয়া যায়।
অজন্তাপ্রবাহিতা
তথ্য- ইন্টারনেট
ছবি -রাহ
