আজ সকালে উঠে নিয়মমাফিক টুথপেস্টটা হাতে নিয়ে দেখলাম ,শেষ ।
এত সকালে দোকান বন্ধ। আচ্ছা শুধু কী দোকান বন্ধ ?টুথপেস্টখানা কেনার মত টাকা আছে তো, ওয়ালেটে?
মাসের প্রথমে ও শেষে পকেট মোটামুটি ফক্কাই থাকে ।
অর্থনীতিবিদরা বলেন,টুথপেস্ট থেকেই নাকি সারাদিনের অর্থনীতি শুরু হয় ।
যা দিনকাল পড়েছে,ধারে কাছে একটা নীম গাছও নেই,যে তার ডাল ভেঙে দাঁতন করবো ।
সামনে রাস্তার কুকুরটা রাতের ঘুমের আমেজে আড়মোড়া ভেঙে নিজের দাঁত কপাটি দেখিয়ে আবার পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো।কি মজা ওদের । দন্তম্যানেজমেন্ট নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই ।মানুষেরই যত্ত ঝামেলা ।
দাঁত ভালো রাখো।চোখ ভালো রাখো।শরীরে মেদ জমতে দিও না ইত্যাদি…. ইত্যাদি।
ঠিক এই মুহুর্তেই মায়ের ফোন, কী রে উঠেছিস?
“ঘুমিয়ে থাকার উপায় যদি থাকতো, তাহলে আর কে উঠে প্রাতঃ কালীন যুদ্ধে নাবতো মা !”
না বলিনি ,এই কথা….
ছোট্ট একটা ‘হু’ তেই কাজ সারলাম ।
মায়ের মন অন্তর্যামী।
প্রশ্নবাণ এলো, কী শেষ হয়েছে ?
- টুথপেস্ট।
-মাসের প্ৰথমেই তোর সব শেষ হয়ে যায় কেনো বলতো?
কিনে আন ।
-মাইনে পাই নি ।
-একটু টাকা জমিয়ে রাখতে পারিস না।কি করিস সারা মাস? সামান্য টুথপেস্ট কেনারও টাকা নেই । তোর এতটুকুন মানি ম্যানেজমেন্ট নেই ।
ফোনের ওপারে শব্দের গোলাবাড়ি শুরু হলো।
এপারে মনে মনে ভাবছিলাম,কতো কি জমিয়ে রাখবো মা!
কখনো টেস্টপেপারের মাঝে আশীর্বাদী ফুলের পাপড়ি জমিয়ে রেখে ভেবেছিলাম সব পরীক্ষা পাশ করে যাবো।তাই কী হয়েছে ?ছোট বড় কত উপহার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জমিয়ে রেখে ছিলাম।জমাতে জমাতে ঘর ভরে গেল,সামলে সামলে হাঁপিয়ে উঠলাম, কোথায় যেন হিসেব মিললো না ।
জমিয়ে রেখেছিলাম পরিশ্রমের পরে কপাল থেকে চুঁইয়ে নেবে আসা ঘামের বিন্দু,সেই গন্ধ,সেই ছোট্ট মুহূর্তের বড় বড় পাওয়া গুলো। সব জমিয়ে রেখেছিলাম । ভেবেছিলাম সব সুদে আসলে বাড়ুক দিনে দিনে । কখন যে সুদের খাতা বন্ধ হয়ে গেল বুঝতে পারি নি। আসলটাও শূন্যের খাতায় চলে গেছে।
জমা খরচের অংকে গোড়া থেকেই বড্ড কাঁচা ছিলাম ।
ফুঁটো হয়ে যাওয়া ভাঁড়ে আর কী জমানো যায়।যতই সাবধান হয়ে সামলাও না কেন সফল কোনোদিনও হবে না।
সেই মতই টাকাও জমিয়ে রাখতে পারি নি । আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।কিন্তু কোথাও যেন হিসেব মেলাতে পারি নি। শুধু টাকা কেন ? ভালোবাসার মুহূর্ত গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দূরত্বই অনুভব করেছি চিরকাল। পারিনি গো চেনা পৃথিবীটাকে ধরে রাখতে, বদলে গেছে কত কি….!
শুধু কি জমিয়ে রাখবো বলে জন্মেছিলাম…… ? কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন ভালোবাসা ছাড়া এই গানটাই তো সম্বল করে বেঁচে আছি। একদিন কালের নিয়মে হয়তো এটাও ভুলে যাবো স্মৃতির ফোল্ডারেও যে বেশি ফাইল বেশিদিন সেভ করে রাখা যায় না। মেমরি ফুল হলে ডিলিট করে দিতে হয়। এটাই সত্যি গো মা। একদিন আমার এই শরীরটাও থাকবে না সেটাও শেষ হয়ে যাবে।
অজন্তাপ্রবাহিতা
